![]() |
| AI দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি। |
সপ্তমীর রাত। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর আনন্দ, উচ্ছ্বাসের পারদ সপ্তমে। চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো প্যান্ডেলের ভিতরে ঠাসাঠাসি ভিড়। তার মধ্যেই তুমুল বৃষ্টি। গা ঘেঁষাঘেঁষি ভিড় হলেও মোটামুটি একটা ছন্দে চলছিল। তার মধ্যেই তুমুল বৃষ্টি। এক দল প্যান্ডেলের ভিতরে। তাঁদের বাইরে বেরনোর সময় হলেও বৃষ্টির জন্য বেরোচ্ছেন না। আবার বাইরে যাঁরা ছিলেন, বৃষ্টির জন্য তাঁরাও ভিতরে ঢুকতে মরিয়া। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দড়ি ধরে যাঁরা গ্রুপ করে ভিতরে ঢুকছিলেন, তাঁরাও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অথবা ভিড়ের চাপে দড়ি ছেড়ে উধাও। ফলে বাইরের লোকজন হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন ভিতরে। ভিতরের লোক বেরোয়নি। ফলে চক্রাকার বা কয়েলের মতো প্যান্ডেলের ভিতরে তিল ধারণের জায়গা নেই। ধাক্কাধাক্কি। ঠেলাঠেলি।
এই তুমুল হুলস্থুলের মধ্যেই আচমকা পুজো প্যান্ডেলের মাইকে ঘোষণা, ‘‘প্যান্ডেল যখন-তখন ভেঙে পড়তে পারে, আপনারা বেরিয়ে যান। না হলে পদপিষ্ট হতে পারেন।’’ এই ঘোষণাই যেন বারুদে অগ্নি সংযোগ করেছিল সপ্তমীর অভিশপ্ত রাতে। যার জেরে তুমুল হুড়োহুড়ি, বাইরে বেরোতে প্রাণপণ চেষ্টা। পরের ঘটনা সবার জানা। উৎসবের মধ্যেই ঝরে গেল শিশু, মহিলা-সহ ১৯টি প্রাণ।
এবার বিতর্কিত ঘোষণাকারীদের একজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। নদিয়া থেকে গ্রেফতার সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে নদিয়া থেকে আটক করে কলকাতায় এনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষও ছিলেন। মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। ফলে তাঁর টিকি পাচ্ছিল না পুলিশ। তবে অন্য ফোন থেকে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। পুলিশ সূত্রে দাবি, ৮টি নম্বর ট্র্যাক করা হচ্ছিল। সেই সূত্রেই জালে সেন্টু।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পর্যন্ত বলেছেন, ‘‘ভিড়ের সময় ওই ঘোষণা করার দরকার ছিল না। প্যান্ডেল তো ভেঙে পড়েনি।’’ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রাথমিক নানা সূত্র থেকে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন মাইকে ২ জন ঘোষণা করছিলেন। তাহলে অন্য ঘোষক কে? তাঁর খোঁজ কবে মিলবে? কেন ওই ঘোষণা করেছিলেন দু’জন? এই ঘোষণা কি পুজো কমিটির সিদ্ধান্তে করা হয়েছিল, নাকি সেন্টু এবং অন্য ব্যক্তি নিজেরাই ঘোষণা করেছিলেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর কি মিলবে? যদিও বা মেলে কবে মিলবে? ১৯ জনের মৃত্যুর জন্য তাঁদের কি শাস্তি হবে? আপাতত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলকে ৩ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা। সেই দিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।
